স্টাফ রিপোর্টার: মোঃ মনির হোসেন হাফেজ ছৈয়াল
হাইমচর টাইম, হাইমচর, চাঁদপুর।
……………………
চাঁদপুরের হাইমচরে আদালতের নির্দেশে সরকারি একটি মৎস্য ঘেরের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পাওয়া হাইমচর থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাজমুল হাসানের বিরুদ্ধে নিয়মবহির্ভূতভাবে ঘেরের মাছ বিক্রির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, কোনো ধরনের উন্মুক্ত নিলাম বা টেন্ডার ছাড়াই গত ১৫ আগস্ট ওই ঘের থেকে ১২ থেকে ১৪ মণ মাছ আহরণ করে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা।
জানা যায়, হাইমচর উপজেলার নীলকমল ইউনিয়নের মাঝের চরের এই মৎস্য ঘেরটি সরকারি সম্পত্তি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ভাই জে. আর. ওয়াদুদ টিপু দীর্ঘদিন ধরে ঘেরটি দখলে রেখেছিলেন। এ নিয়ে মালিকানা বিরোধ আদালত পর্যন্ত গড়ালে আদালত সম্পত্তিটি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য হাইমচর থানার ওসিকে মাসিক ২ হাজার টাকা সম্মানিতে রিসিভার হিসেবে দায়িত্ব দেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দায়িত্ব পাওয়ার পর গত ১৫ আগস্ট ওসি নাজমুল হাসান নিজে উপস্থিত থেকে জেলেদের সহযোগিতায় ঘের থেকে বিপুল পরিমাণ মাছ আহরণ করেন।
অভিযোগ রয়েছে, নিয়ম অনুযায়ী সরকারি সম্পত্তির মাছ উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার কথা থাকলেও তা মানা হয়নি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ওসি মোহাম্মদ নাজমুল হাসান বলেন, “ঘেরে কী পরিমাণ পোনা মাছ আছে তা পরীক্ষা করার জন্য জাল ফেলা হয়েছিল। সামান্য কিছু মাছ পাওয়া যায়। পরে কমিটির মাধ্যমে মাছগুলো বিক্রি করে ৩০ থেকে ৩২ হাজার টাকা পাওয়া গেছে।” তবে বিক্রির অর্থ এখনো সরকারি কোনো অ্যাকাউন্টে জমা হয়নি বলে তিনি স্বীকার করেন।
এ বিষয়ে হাইমচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত রায় বলেন, “এই মাছ বিক্রির বিষয়ে কোনো নিলামের অফিশিয়াল চিঠি আমার দপ্তরে আসেনি। মাছ বিক্রি হয়ে থাকলে ওই অর্থ কোন কোষাগারে জমা হয়েছে, তা আমার জানা নেই।”
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আইনের রক্ষকই যখন ভক্ষকের ভূমিকায়, তখন সরকারি সম্পত্তির নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
#হাইমচর #চাঁদপুর #ওসি #মাছ_লুট #HaimcharTime