হাইমচরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত, নেতাদের কঠোর বার্তা
………………………………..
করবো কাজ, গড়বো দেশ – গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলায় ৫ দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সূচনা হয়। পরে সকাল ১০টায় আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিন উল্লাহ বেপারীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম শফিক পাটোয়ারীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট কুহিনুর রশিদ।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মিজান ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক জহির মিয়াজী, ওলামা দলের সভাপতি মাওলানা আলমগীর হোসেন সহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এডভোকেট কুহিনুর রশিদ বলেন, “বিএনপিকে মামলা-হামলা দিয়ে শেষ করা যায়নি, যাবেও না। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার বিচার বিভাগকে দলীয়করণ করেছিল। আমরা হুঁশিয়ার করে বলতে চাই, যারা আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে, তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে। আগামী নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া এদেশে হতে দেওয়া হবে না।”
সভাপতির বক্তব্যে আমিন উল্লাহ বেপারী বলেন, “হাইমচরে বিএনপিতে কোনো গ্রুপিং চলবে না। শহীদ জিয়ার দল ঐক্যবদ্ধ। যারা পদ-পদবী ব্যবহার করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে চান, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ধানের শীষকে বিজয়ী করতে সবাইকে এক কাতারে আসতে হবে।”
সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম শফিক পাটোয়ারী বলেন, “আমরা ১৭ বছর ঘরে ঘুমাতে পারিনি। এখন সময় প্রতিশোধের নয়, প্রতিরোধের। হাইমচরে কোনো চাঁদাবাজ, ভূমিদস্যুর ঠাঁই হবে না। তারেক রহমানের নির্দেশে জনগণের পাশে থেকে আমরা কাজ করবো। কেউ বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশীদ গাজী বলেন, “বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য নয়, মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আন্দোলন করছে। তৃণমূলের প্রতিটি নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আগামী দিনে কেন্দ্র থেকে যে কর্মসূচি আসবে, হাইমচর থেকে আমরা তা সফল করবো।”
যুগ্ম সম্পাদক সরদার আবু তাহের বলেন, “আওয়ামী লীগের দোসররা এখনও বিভিন্ন জায়গায় ঘাপটি মেরে আছে। তারা বিএনপির ভেতরে ঢুকে বিশৃঙ্খলা করার পাঁয়তারা করছে। আমাদের সজাগ থাকতে হবে। দলের দুঃসময়ের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করতে হবে।”
সাংগঠনিক সম্পাদক খোরশেদ আলম কোতোয়াল বলেন, “সাংগঠনিক শৃঙ্খলাই বিএনপির মূল শক্তি। প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটিকে আরও শক্তিশালী করা হবে। কোনো অনুপ্রবেশকারীকে দলে জায়গা দেওয়া হবে না। ত্যাগীদের নিয়েই আমরা আগামীর হাইমচর বিএনপি গড়বো।”
যুবদলের আহ্বায়ক জহিরুল ইসলাম মাঝি বলেন, “যুবদল রাজপথের সংগঠন। যুবদলের নাম ভাঙিয়ে কেউ অপকর্ম করলে তাকে বহিষ্কার করা হবে। ধানের শীষের বিজয়ের জন্য যুবদল জীবন দিতেও প্রস্তুত।”
যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান আখন বলেন, “আমরা কোনো পাতানো নির্বাচন মানি না। যুব সমাজ ভোট দিতে চায়। ভোটের অধিকার আদায়ে প্রয়োজনে আবারও রাজপথে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।”
আলোচনা শেষে দেশ, জাতি ও বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় দোয়া পরিচালনা করেন ওলামা দলের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আলাউদ্দিন আনসারী।
উপজেলা বিএনপি জানায়, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ৫ দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ, কচুরিপানাযুক্ত পুকুর পরিষ্কার ও মাছের পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচি পালিত হবে।